1. miahmohammadshuzan@gmail.com : Central News :
  2. centralnewsbd24@gmail.com : CNB BD : CNB BD
রোজায় হৃদরোগীদের করণীয় | Central News BD
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

রোজায় হৃদরোগীদের করণীয়

ডেস্ক স্বাস্থ্য
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ১০৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

রোজার সময়ে মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপের পরিবর্তন ঘটে। স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ওষুধ গ্রহণের সময়সূচি, ঘুমের সময় ও পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণ বয়স্ক মানুষ যেভাবে এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তা একজন অসুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তাই এ বিষয়ে কিছু বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। প্রায়শই দেখা যায় যে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনির অক্ষমতা ইত্যাদি পাশাপাশি অবস্থান করে।

ফলে রোজার সময় খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধপত্র নতুন করে সময়োপযোগী করে নিতে হবে- ১। যাদের হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কম (LVEF 25% এর নিচে) তাদের রোজা না রাখাই ভালো।

২। যাদের হার্ট দুর্বল, বেশি মাত্রায় ডায়াবেটিস আছে, কিডনির সমস্যা আছে তাদেরও রোজা না রাখাই ভালো। (প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন)

৩। যেসব হৃদরোগীর হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা স্বাভাবিক তারা অন্য সবার মতো রোজা রাখতে পারবেন।

৪। হৃদরোগীদের সাধারণত কয়েকটি ওষুধ নিয়মিত খেয়ে যেতে হয়। বেশিরভাগ ওষুধ দিনে একবার বা দুবার খেলেই হয়।

আরও পড়ুন:

যা খেলে সারাদিন পানির পিপাসা কম লাগবে

যেসব ওষুধ দিনে একবার খেলে চলে রোজার সময় সেগুলো রাতের খাবারের সময় নিলেই চলবে। যেসব ওষুধ দিনে দুবার খেতে হবে সেগুলো ইফতার ও সাহরির সময় খেলে চলবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন দুই ডোজের মধ্যবর্তী সময়টি সংক্ষিপ্ত না হয়।

বিশেষ করে প্রেসারের ওষুধ পর্যাপ্ত ফারাক (space) দিয়ে সেবন করতে হবে। রোজার সময়ে খাদ্য ও পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রেসার কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মাত্রা কমানো যেতে পারে।

হৃদরোগের কিছু কিছু ওষুধ (যেমন Nitrate) সকালে ও বিকালে খেতে হয়, রোজার সেগুলো সাহরি ও ইফতারির সময়ে সমন্বয় করা যায়। কিছু ওষুধ দিনে তিনবার নিতে হয় (যেমন Diltiazem) সেগুলো স্লো রিলিজ ফর্মে দিনে একবার বা দুবারে খাওয়া যায়।

৫। হৃদরোগীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দিনের দীর্ঘ সময় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করায় রক্তে সুগারের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বা মাথা ঝিমঝিম করলে, বুক ধড়ফড় করে প্রচুর ঘাম দিলে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে বলে সন্দেহ করতে হবে। এবং তৎক্ষণাৎ সুগার পরীক্ষা করা সম্ভব হলে করতে হবে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে বরখাস্ত হলেন সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলোচিত সেই নার্স

পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে হাতের কাছে চিনি জাতীয় যা কিছু পাওয়া যায় দ্রুত খেয়ে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। পরবর্তীতে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে হবে। তবে রোজার সময় যেসব ওষুধ দ্রুত রক্তের সুগার কমায় তা এড়িয়ে চলা উত্তম।

ইনসুলিন এর ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইনসুলিনের মেজর অংশটি ইফতারের সময় নিলে ভালো, আর স্বল্প মাত্রাটি সাহরির সময় নিতে হবে যাতে দিনের দীর্ঘ সময়ে সুগার কমে না যায়।

৬। হৃদরোগীদের মধ্যে যাদের অ্যাজমা আছে তাদের মুখের ওষুধ গ্রহণে তেমন সমস্যা হয় না। সাহরি ইফতারির সময় নিলেই হবে। তবে যাদের ঘন ঘন ইনহ্যালার নিতে হয় তারা সেটি নিতে পারবেন। কারণ ইনহ্যালার ফুসফুসে বাতাসের সঙ্গে টেনে নিতে হয়। পেটে যাওয়ার দরকার পড়ে না।

আর যেসব ইনহ্যালার (যেমন Bexitrol Inhaler) দিনে দুবার নিয়মিত নিতে হয় সেগুলো সাহরি এবং ইফতারির সময় নিলেই চলবে। তাই হৃদরোগীরা সচেতন হোন।

লেখক : সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

© ২০২১-২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সেন্ট্রাল নিউজ বিডি.কম

Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )