1. miahmohammadshuzan@gmail.com : Central News :
  2. centralnewsbd24@gmail.com : CNB BD : CNB BD
রংপুরে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী, চিকিৎসায় নেই আলাদা ওয়ার্ড | Central News BD
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

রংপুরে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী, চিকিৎসায় নেই আলাদা ওয়ার্ড

একেএম সুমন মিয়া 
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৯ জুলাই, ২০২৩
  • ৩৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

গত কয়েকদিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্য বলছে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। সাধারণত রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও এখন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার চিকিৎসারত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলে নড়েচড়ে বসে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সব রোগীকে একসাথে রাখা হলেও এখন কিছুটা তৎপর হয়েছে মেডিকেল প্রশাসন। নতুন ভবনের ২য় তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের ৩নম্বর এবং ৬নম্বর ইউনিটে রাখা হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের। তবে এখনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

রবিবার (৯ জুলাই) সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ রোগীদের সাথেই ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া ও আলাদা ব্যবস্থায় চিকিৎসার কথা বলছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবে আলাদা ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না করায় ডেঙ্গু আতঙ্কে আছে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে আসা খন্দকার আশিকুর নামে এক রোগীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সামান্য একটা মশারি দিয়ে তারা আছে কিন্তু যখন টয়লেটে যাচ্ছে তখন যদি কোন মশা তাদের কামড় দেয় সেটাতো পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে যাবে। তাই দ্রুত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরকে আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হোক। নাহলে তো আমরা সুস্থ্য হতে এসে অসুস্থ্য হয়ে যাবো।

গত মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসারত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া বুলেট রংপুর নগরীর সদর হাসপাতাল কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন। চাকরী করতে ঢাকার একটি সরকারী দফতরে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেই আক্রান্ত হন ডেঙ্গু রোগে। হাসপাতালে অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তার ভাইয়ের।

তিনি বলছেন, বাড়ি এসে ২ দিন পরে খুব জ্বর হলে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার বলছে আমার ভাইয়ের ডেঙ্গু হইছে। ডেঙ্গুর ট্রিটমেন্ট করা লাগবে। তারপর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানেই তো মারা গেলো।

চিকিৎসা নিতে আসা রিহানা নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, যেহেতু আমার রোগীর ডেঙ্গু হইছে তাকে যদি আলাদা করে রাখা হতো তাহলে ভালো হতো। কারণ সে ঘুমাইতে পারছে না। শরীর প্রচন্ড ব্যাথা করছে। এখানে তো আরো রোগী ভর্তি আছে। আলাদা রাখা হলে চিকিৎসাটাও আরো ভালো হইতো।

ফারুক নামে আরেক স্বজন জানান, এখানে তো সব কিনে আনতে হয়। হাসপাতাল থেকে ২দিনে শুধু একটা স্যালাইন দিছে। আর প্যারাসিটামল বড়ি ছাড়া বাকি সব কিনে আনতে হচ্ছে। গরীব মানুষ খরচ কমাতে হাসপাতালে আসা কিন্তু এখানেও কিনেই আনা লাগে। সাশ্রয় আর কই হলো।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চিকিৎসারত ডেঙ্গুরোগীদেরো অভিযোগ চিকিৎসা মিললেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তারা।

সুরুজ্জামাল নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগী জানান, “ঢাকা থেকে আসছি আমি ঈদের আগে বুধবার আর আক্রান্ত হইছি আমি রবিবার মানে জ্বর আসছে। রবিবার থেকেই কিছু ক্ষেতে পারছিনা ব্যাথা শুরু হইছে। এর তো হাসপাতালে ভর্তি হলাম এখন এই রাত থেকে একটু আরামে আছি। ”

কুড়িগ্রাম থেকে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত আরেক রোগী জানান, আমি ঢাকার মালিবাগের এক কোম্পানিতে সেলসের কাজ করি। ঈদের পরদিন প্রচন্ড জ্বর আসে। বন্ধুদের সেবায়ও যখন কাজ হচ্ছিলনা তখন বাড়ি আসি। এরপর ভুরুঙ্গামারিতে টেস্ট করাই সেখানে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সেখান থেকে ৪তারিখে রংপুরে রেফার্ড করে। এখানে এসে তো কোন সেবায় পাচ্ছি না। সবি তো কেনা লাগতেছে। ২টা গ্যাসের ট্যাবলেট আর নাপা ছাড়া সবই কেনা। ৪ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত মাত্র ১টা স্যালাইন পাইছি। অথচ প্রতিদিন আমাকে ২টা স্যালাইন দেয়া লাগছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবশেষ এখন(রবিবার বিকেল) পর্যন্ত মোট ১৩জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁরা সকলেই ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে এসেছেন বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়ে তিনি জানান, সোমবার সকালে জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরে নিজের বাড়িতে যান বুলেট। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে দুপুরেই তাকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

রোগী ও তাদের স্বজনদের সেবা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা শুধু রংপুর অঞ্চলে না সারাদেশেই ডেঙ্গু প্রকট আকার ধারন করছে। রোগী বা স্বজনের কাছ থেকে তেমন কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নিবো। এছাড়াও ডেঙ্গু রোগীদের বিশেষ নজরে রাখারও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগসুত্রে জানাগেছে, শ্যামাসুন্দরী খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য খুব দ্রুত সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সহ ডেঙ্গুরোধে বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানায় সুত্রটি।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

© ২০২১-২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সেন্ট্রাল নিউজ বিডি.কম

Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )