1. miahmohammadshuzan@gmail.com : Central News :
  2. centralnewsbd24@gmail.com : CNB BD : CNB BD
পৃথিবীর বুকে প্রাণের গণ বিলুপ্তি | Central News BD
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

পৃথিবীর বুকে প্রাণের গণ বিলুপ্তি

সিএনবি ডেক্স
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪
  • ২১ জন সংবাদটি পড়েছেন

আজ থেকে প্রায় ৬.৫ কোটি বছর আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই পৃথিবীতে এক ব্যাপক আকারের জীব-জগতের গণ বিলুপ্তি ঘটে। যা মূলত মাউন্ট এভারেস্টের মতো বিশাল আকারের এক গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর প্রায় ৯০% প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তার সাথে ১৪ কোটি বছর ব্যাপী রাজত্ব কায়েম করা ডাইনোসরের সকল প্রজাতি একেবারেই শেষ হয়ে যায়। যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ফিফথ ম্যাস এক্সটেনশন’ নামে অভিহিত করেন।

তবে আমাদের অজান্তেই মানুষের নির্বিচারে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস ও বিনষ্টের কারণে শিল্প বিপ্লবে পর থেকেই আনুমানিক ১,৫০০ সাল থেকে প্রকৃতিতে টিকে থাকা উদ্ভিদ এবং প্রাণীর আরেক নতুন ভয়ংকর ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এই জাতীয় গণ বিলুপ্তি অনেকটা ধীরে হলেও এই বিলুপ্তির জন্য বিজ্ঞানীরা কিন্তু মানুষের নীতিহীন কর্মকাণ্ডকেই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন।

 

গত ২০১৯ সালের পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা দেখা যায় যে, বর্তমানে পৃথিবীতে টিকে থাকা ৪ মিলিয়ন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর প্রজাতির মধ্যে ১ মিলিয়ন প্রজাতি গণ বিলুপ্তির হুমকির মধ্যে রয়েছে। যেমন এক সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় গহিন অরণ্যে অবাধে বিচরণ করা জাভান বাঘ এখন বিপন্ন প্রায় প্রাণীর তালিকায় নাম লিখিয়েছে। তাছাড়া বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ১,৫০০ সাল থেকে অন্তত ৭৩টি থেকে ৭৫টি প্রাণী চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

 

যদি মানুষের অস্তিত্ব না থাকত, তাহলে একই বংশের প্রাকৃতিকভাবে বিলুপ্ত হতে আরো হয়ত কমপক্ষে ১৮ হাজার বছর সময় লেগে যেত। আর বর্তমানে সারা বিশ্বের মধ্যে শত শত উদ্ভিদ এবং প্রাণীর প্রজাতির ইচ্ছাকৃত দ্রুত বিলুপ্তির জন্য দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের ডিআর কঙ্গোর মতো দেশগুলোকে দায়ী করেন পরিবেশবাদীরা।

 

তবে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে এই দেশগুলোকে দায়ী করা হলেও বাস্তবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার এবং রাশিয়া ছাড়া অধিকাংশ দেশেই নতুন করে শিল্পাঞ্চল ও নগরায়ণের জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে কিংবা এই জাতীয় ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

 

অথচ বাস্তবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো নিজ দেশের বনভূমি, বন্য পশুপাখি এবং গাছাপালা আচ্ছাদিত এলাকার কোন ক্ষতি না করেই অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক শিল্পায়ন এবং আধুনিক নগরায়ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দেশগুলোর দেয়া তথ্যমতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট ভূমির প্রায় ৬০% এর অধিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

 

বিশেষ করে আজ থেকে আনুমানিক ২০০ বছর থেকে ১৫০ বছর আগে আমাদের দেশের বনাঞ্চলে জাভান গন্ডার, নীলগাই, বন্য ছাগলসহ আরো বেশকিছু দুর্লভ প্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখা গেলেও স্থানীয়দের নির্বিচারে শিকারের কারণে এগুলো আমাদের দেশ থেকে অনেক আগেই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর ১৮৭৬ সালে কুমিল্লায় একটি দুইশিঙ্গি গন্ডারকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

 

তার পাশাপাশি ১৮৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম থেকে একটি গন্ডার ধরা হয়। যেটি ছিল কিনা দুইশিঙ্গ বিশিষ্ট জীবিত থাকা বাংলাদেশের শেষ গন্ডার ‘বেগম’। যাকে লন্ডনের চিরিয়াখানায় বিক্রি করে দেয়া হয়। এই ছিল আমাদের দেশে গন্ডার প্রজাতির বিলুপ্তির করুন কাহিনি।

 

অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় সারা বছর যাবত আন্দোলন, সেমিনার, র‍্যালিসহ বিভিন্ন দিবস পালন করা হলেও বাস্তবে বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর সুরক্ষায় তেমন কিছুই করতে পারছি না। যা হতাশাজনক ভাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে চলমান জীব জগতের ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করছে।

 

-সিরাজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

© ২০২১-২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সেন্ট্রাল নিউজ বিডি.কম

Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )